Beshama or Bishua: New Year Festival of Rajbanshi or Koch-Rajbanshi
Beshama/ Bishua/Shirua-Bishua has been transformed into a type of national festival of Koch-Rajbanshi. This New-year festival is called as Beshama in lower Assam and Coochbehar, Shirua in Darjeeling and Dinajpur and Bishua in upper Assam. A dawn of Renaissance and cultural conciousness has boosted its spread and a madness revolving it is increasing rapidly. Like Bihu, in the whole Assam and North Bengal it is being celebrated throughout the year. Bhawaiya song, folk-dramas and other cultural programmes are performed in these programmes.
Generally Beshama or Bishua Festival is celebrated on Chaitra- Sankranti of Bengali month Chaitra. According to Purana seven daughters of Daksha Raj, were married to Chandra Dev. Chitra and Baishakhi were two among them. The name of two months Chaitra and Baishakh of Solar Calendar and Bengali Calendar were given after them. On the last day Chaitra, the sun enters into zodiac sign of Pisces, so it is called Chaitra Sankranti. Beshama or Bishua, the name of this festival was derived from the fact of vertical positioning of the sun on the Equator, which is called Equinox. Though Equinox takes place in between 19th to 21st March and just after this Spring ends due to summer solstice. On this occasion of the Equinox, various types of festivals are celebrated all over India, like- Baishakhi in Punjab, Bohag Bihu in Assam, Bishu in Kerala, Poila Boishakh in West Bengal, Puthandu in Tamilnadu etc. Bodo community of North Eastern India calls it Boishagu. Dimasa-Kachhari, Bishnupuriya and Rabha call it Busuma, Bichu and Baykhu respectively. Actually it is a harvest or Corp festival. Mixing with regional heritage, it got multi-dimensionality in its character.
But this particular day has got an extra importance because on this date in 1555 A.D. Bishwasingha or Bishu, the emperor of the then Kamrup Kamtapur was born at Chiknajhar of Kokrajhar district whose father was Hariya Mandal and mother Hira Devi. Bishwasingha was the father of Maharaja Naranarayana and Chila Ray the Great. In the opinion of some experts, to celebrate this day of his birth, the Koch-Rajbanshi community has been celebrating it as Bishua or Beshama. But it is undeniable that his birth has added an extra meaning to it.
The 'Gaobura' or the oldest person makes 'Bishtita', a kind of extremely bitter medicinal herbal drink, early in the morning. This Gaobura, selected by the villagers, is generally an exorcist. Bishtita is a mixture of seven medicinal herbs-
1. Indrajal
2. Neem
3. Burke of Arjun tree
4. Berk of Surimala tree
5. Basaka Leaves
6. Tender leaves of Bhati
7. Berk of Chhaitan tree
Gaobura gives an special invitation to the very rarely available Indrajal (herbs) in the evening of previous day. Rajbanshi or Koch-Rajbanshi people believe that this Bishtita gives a shield to the diseases which spread at advent of next summer. It is advised to take in empty stomach in the early morning.
On the other hand, the head of the family collects seven herbs and tie them together to make a bunch and put them up in the veranda of 'Thakur ghar' and other rooms. This compromises-
1. Cane leaves
2. Turmeric Flower
3. Fern
4. Cannabis
5. Polygonum orientale Linn
6. Baghachura (local name)
7. Pani Mutari(local name)
According to belief in Koch-Rajbanshi community, is House God becomes satisfied with thos this offering. On the other hand, the housewife throws out the 'Nakri' or stirring stick used while making of daal and unused broom of the kitchen, cleanse the room and utensils, makes Alpana and then begins making Naibedya or offerings of 'Barosas' or twelve grains. It is also called Atkalai Batkalai which is beautifully put on a dish and is offered to the God. This Atkalai Batkalai consists of-
1. Bhurbhura ( Dry Fried rice)
2. Flattened Rice
3. Wheat Grain
4. Barley
5. Chikpea
6. Sesame seeds
7. Mustard seeds
8. Green Mango
9. Jackfruit
10. Black Gram
11. Red Lentil
12. Cowpea
These ingredients vary with the changes regions. Except the
রাজবংশী বা কোচ-রাজবংশী জনগোষ্ঠীর নয়া-বছর বরণ অনুষ্ঠান: বেষমা বা বিষুয়া উৎসব
বেষমা/বিষুয়া/শিরুয়া-বিষুয়া বর্তমান দশকোত রাজবংশী বা কোচ-রাজবংশী জনগোষ্ঠীর জাতীয় উৎসবত পরিণত হইছে । বর্ষবরণের এই উৎসব নামনি আসাম, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িত বেষমা নামোত, দিনাজপুর ও দার্জিলিঙোত শিরুয়া নামোত আরও উপর আসামোত বিষুয়া নামোত পরিচিত । সাংস্কৃতিক চেতনা আরও নবজাগরণ ইয়ার বিস্তারক যেমুন আগে দিছে তেমুনে 'বেষমা উৎসব'-ক নিয়া আগ্রহ দিনকে দিন বাড়ির ধরিছে । আসামের বিহুর নাকান গোটায় বৈশাখ মাস ধরি এলা সারা আসাম আরও উত্তরবঙ্গোত ভাওয়াইয়া গান, নাটক আরও নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ।
চৈত মাসের সংক্রান্তি তিথিত এই 'বেষমা বা বিষুয়া পরব' অনুষ্ঠিত হয় । পুরাণ মতে দক্ষ রাজা তাঁর সাত বেটিক বিয়াও দেয় চন্দ্রদেবের সোদে । ইমার মইধ্যে অন্যতম হইল্ চিত্রা আরও বৈশাখী । ইমার নাম অনুসারে দুই সৌরমাসের নাম চৈত্র আরও বৈশাখ । চৈত্ মাসের শ্যাষ দিন সূর্য এক রাশি হাতে আরেক রাশিত (মীন রাশিত) সোন্দায় বুলি এই দিনটা চৈত্র সংক্রান্তি তিথি । এই উৎসবের নাম বেষমা বা বিষুয়া হওয়ার পাছোত বিষুবরেখার উপরা সূর্যের খাড়া অবস্থান অর্থাৎ মহাবিষুবোক মনে করা হয় । যদিও মহাবিষুব হয় ১৯ থাকি ২১ শে মার্চের মইধ্যোত আর তার ঠিক পাছোতে সূর্যর উত্তরায়ণ-এর ফলোত বসন্ত ঋতুর শ্যাষ হয় আরও শুরু হয়া যায় গরম (গ্রীষ্ম) কাল । এই মহাবিষুবোক উপলক্ষ করি সারা ভারতোত পালিত হয় নানান উৎসব, যেমুন- বৈশাখী ( পাঞ্জাব), বহাগ বিহু( আসাম), বিষু (কেরালা), পয়লা বৈশাখ ( পশ্চিম বাংলা), পুথান্ডু (তামিলনাড়ু) ইত্যাদি । উত্তর পূর্ব ভারতের বড়ো জনগোষ্ঠী ইনাক বৈশাগু, ডিমাসা-কাছারীলা বুসুমা, বিষ্ণুপুরীলা বিচু, রাভালা ইনাক বায়খু নামে কয়া থাকে । কিন্তুক মূলত এইটা একটা 'হারভেষ্ট ফেস্টিভ্যাল' বা ' শস্য উৎসব । স্থানীয় ঐতিহ্যের মিশোলে ইনার চর�
রাজবংশী বা কোচ-রাজবংশী জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠান: বেষমা বা বিষুয়া উৎসব
বেষমা/বিষুয়া/শিরুয়া-বিষুয়া বর্তমান দশকে রাজবংশী বা কোচ-রাজবংশী জনগোষ্ঠীর জাতীয় উৎসব পরিগণিত হয়েছে । বর্ষবরণের এই উৎসব নিম্ন আসাম, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে বেষমা নামে, দিনাজপুর ও দার্জিলিঙে শিরুয়া নামে ও উপর আসামে বিষুয়া নামে পরিচিত । সাংস্কৃতিক চেতনা ও নবজাগরণের উন্মেষ এর বিস্তারকে যেমন ত্বরান্বিত করেছে তেমনি 'বেষমা উৎসব' এর উন্মাদনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে । আসামের বিহুর মত সারা বৈশাখ মাস ধরে এখন গোটা আসাম ও উত্তরবঙ্গে ভাওয়াইয়া গান, নাটক ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় । সাধারণত চৈত্র মাসের সংক্রান্তি তিথিতে এই 'বেষমা বা বিষুয়া পরব' অনুষ্ঠিত হয় । পুরাণ মতে দক্ষ রাজা তাঁর সাত কন্যার বিবাহ প্রদান করেন চন্দ্রদেবের সাথে । এদের মধ্যে অন্যতম চিত্রা ও বৈশাখী । এদের নামানুসারে দুই সৌরমাসের নাম চৈত্র ও বৈশাখ । চৈত্র মাসের শেষ দিন সূর্য এক রাশি থেকে আরেক রাশিতে (মীন রাশিতে) প্রবেশ করেন বলে এই দিনটি চৈত্র সংক্রান্তি তিথি । এই উৎসবের নাম বেষমা বা বিষুয়া হওয়ার পিছনে বিষুবরেখার উপর সূর্যের উল্লম্ব অবস্থান অর্থাৎ মহাবিষুবকে মনে করা হয় । যদিও মহাবিষুব সংঘটিত হয় ১৯ থেকে ২১ শে মার্চের মধ্যে এবং তার অব্যবহিত পরেই সূর্যের উত্তরায়ণ-এর ফলে বসন্ত ঋতুর পরিসমাপ্তি ঘটে এবং শুরু হয়ে যায় গ্রীষ্ম কাল । এই মহাবিষুবকে উপলক্ষ করে সারা ভারতেই পালিত হয় বিভিন্ন উৎসব, যেমন- বৈশাখী ( পাঞ্জাব), বহাগ বিহু( আসাম), বিষু (কেরালা), পয়লা বৈশাখ ( পশ্চিম বাংলা), পুথান্ডু (তামিলনাড়ু) ইত্যাদি । উত্তর পূর্ব ভারতের বড়ো জনগোষ্ঠী একে বৈশাগু, ডিমাসা-কাছারীরা বুসুমা, বিষ্ণুপুরীরা বিচু, রাভারা একে বায়খু নামে অভিহিত করেন । তবে মূলত এটি একটি 'হারভেষ্ট ফেস্টিভ্যাল' বা ' শস্য উৎসব । স্থানীয় ঐতিহ্যের মিশ্রণে এর চরিত্র বহুমুখী ও বর্ণময় হয়ে উঠেছে । কিন্তু রাজবংশী বা কোচ-রাজবংশী জনগোষ্ঠীর কাছে এই দিনটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে এই কারণে যে চৈত্র সংক্রান্তির এই তিথিতে ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দে (৫০৬ বঙ্গাব্দ) কোচ রাজবংশের পূর্বপুরুষ হাড়িয়া মন্ডলের ঔরসে ও হীরা দেবীর গর্ভে বর্তমান কোকরাঝাড় জেলার চিকনাঝারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্রাচীন কামরূপ তথা কামতাপুরের অধীশ্বর বিশ্বসিংহ তথা 'বিষু', যিনি ছিলেন মহারাজা নরনারায়ণ ও বিশ্বমহাবীর চিলারায়ের পিতৃদেব । অনেকে মনে করেন, তার জন্মতিথি পালন হেতু কোচ-রাজবংশী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেষমা বা বিষুয়া উৎসব পালিত হচ্ছে । তবে একথা অনস্বীকার্য যে, তাঁর জন্মদিন বেষমা বা বিষুয়া উৎসব কে অন্য মাত্রা প্রদান করেছে । চৈত্র সংক্রান্তির এই তিথিতে সকাল বেলা গাওবুড়া বা গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যাক্তি 'বিষতিতা' পানীয় তৈরী করেন । এই গাওবুড়া সাধারণত গুণীন বা ওঝা জাতীয় মানুষ নির্বাচিত হন । বিষতিতা সাতটি ভেষজ উপাদানের একটি মিশ্রন । এই পানীয় মিশ্রণে ব্যবহৃত হয়- ১. ইন্দ্রজাল, ২. নিম, ৩. অর্জুনের বাকল, ৪. সুরিমালার ছাল, ৫. বাসক পাতা, ৬. ভাটির কুশি, ৭. সাইতনের ছাল বা বাকল । এর মধ্যে দুষ্প্রাপ্য ইন্দ্রজালের গাছকে গাওবুড়া বা গ্রামের মোড়ল আগের দিন সন্ধ্যা বেলায় নিমন্ত্রণ করে আসেন । রাজবংশী বা কোচ-রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষজন বিশ্বাস করেন, আগামী ঋতু পরিবর্তনের ফলে গ্রীষ্ম ও বর্ষার প্রকোপে যে সমস্ত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, সে সমস্ত রোগ থেকে এই 'বিষতিতা' তাদের রক্ষা করবে । এই পানীয় প্রাত:শৌচের পর খালি পেটে সেবন করতে হয় । অপরদিকে প্রতিটি বাড়ির গৃহকর্তা খুব সকালে সাতটি ভেষজ পাতা সংগ্রহ করে মুঠি বেঁধে প্রত্যেক ঘর, ঠাকুর ঘরের দরজার উপরে বা বারান্দায় গুঁজে দেন । এতে থাকে- ১. বেত বা গাড়ালের পাতা, ২. হলুদের ফুল ৩. বিষ ঢেকিয়া, ৪. গাঁজাই, ৫. সুটি বা বিষ কাঠালি ৬. বাঘাচুরা ৭. পানি মুতারি লোকবিশ্বাস মতে, এই উপাচারে গৃহদেবতা সন্তুষ্ট হন ও গৃহদোষ বা নক্ষত্র দোষ কেটে যায় । অন্যদিকে গৃহকত্রী রান্নাঘরের 'নাকরি' বা ডাল নাড়ানোর কাঠি ও বাসি অকেজো ঝাঁটা ফেলে দেন, ঘরদোর লেপামোছা করেন, বাসন পরিষ্কার করেন, উঠানে আল্পনা দেন এবং তারপর ' বারোশস' বা বারোশস্য সমন্বিত নৈবেদ্য প্রস্তুতিতে লেগে যান । এই বারোশস্য ভাজা করে একটি থালায় সুন্দর করে সাজিয়ে ইষ্টদেবতাদের অর্পণ করা হয় । একে 'আটকালাই-বাটকালাইল'-ও বলা হয় । ১.চাল ভুরভুরা, ২.চিড়ে, ৩.গম, ৪. যব/পায়রা, ৫.বুট, ৬.তিল, ৭.সরষা, ৮.আম, ৯.কাঠাল, ১০.ঠাকুরি কালাই, ১১. মুসুরি কালাই ১২.খিসিরি কালাই । অঞ্চল ভেদে এই পদ গুলোর অদলবদল হয়ে থাকে । এছাড়াও তুলসি পাটে 'ঝরাদেওয়া'-র বন্দোবস্ত করা হয় । তুলসি গাছের দুই পাশে দুটি উল্লম্ব কাঠির উপরে ভূমির সমান্তরালে আর একটা কাঠি বেঁধে একটা ঘট ঝুলিয়ে দেয়া হয়, ঘটের নীচে ছিদ্র করে দুর্বা ঘাস ঠুসে দেওয়া হয় । এমতাবস্থায় ঘটের উপর জল ঢাললে টিপ টিপ করে তুলসি গাছের উপর পড়তে থাকে । আবার ঐ কাঠিতেই রসুন পেঁয়াজ থোকা থোকা করে বেঁধে ঝুলিয়ে দেয়া হয় । এক্ষেত্রে গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রী ভগবানের কাছে এক মাস পেঁয়াজ রসুন না খাওয়ার জন্য 'কিড়া' খান বা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন ।এই সময়ে গৃহকর্তা গবাদি পশুদের স্নান করান এবং লাঙ্গল, জোঙাল, ব্যাদা, মই ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্রাদি পরিষ্কার করে ধুয়ে গো-দেবতার পাটে রাখেন এবং একই নৈবেদ্য দিয়ে পুজো করেন । অপেক্ষাকৃত কমবয়সী তরুণরা 'শিকার' করতে বেড়িয়ে পরেন । শিকারের সময় অস্ত্র হিসাবে থাকে তির ধনু, লাঠি, খাপোর (বল্লম), বাটুল, জাল, খুকরি ইত্যাদি । অতীতে এই সমস্ত অঞ্চল জঙ্গলপূর্ণ ছিল । তাই শিকারেরও অভাব হতো না । হরিণ, শ্যাষা (খরগোশ), জংলি শুয়োর, হাপা(বনবিড়াল), ছ্যাদা(সজারু) ইত্যাদি ও বিভিন্ন পাখি শিকার হিসেবেগণ্য হত। এখন শিকার করা বেআইনি ঘোষিত হওয়ার ফলে এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেষমার 'শিকার' পর্যায়টি আর নেই । তবে এখনও জায়গায় জায়গায় 'বাহো' দেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে । 'বাহো'-ও শিকার পর্যায়ের, তবে এ হচ্ছে মাছ শিকার । মাছ শিকার করার জন্য বা বাহো দেওয়ার জন্য 'ডাকুয়া' বা আহ্বানকারী 'শিঙা' বাজিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেয় এবং সবাই এক জায়গায় জড়ো হয় মাছ ধরার বিভিন্ন যন্ত্র যেমন- চাক, পলো, ঝোকা, কানার নাটি, হেঙা, খলাই, হালি ইত্যাদি । মাছ শিকার করার পর শিকারীরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসেন । বলা বাহুল্য মাছ শিকারের আনন্দঘন এই পর্যায়টিও এখন বিলুপ্তির পথে । উত্তরবঙ্গে 'বেষমা' মোটামুটি এক দিনের মধ্যেই সমাপ্ত হয় যেখানে আসামে চৈত্র সংক্রান্তির দিন শুরু হয়ে বৈশাখের ছয়দিন অবধি চলে । প্রথমদিন ১. গরুবিষুয়া- অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তির দিন গরু বাছুরকে স্নান করিয়ে মালা পরানো হয়, বিভিন্ন ফল আদি খাওয়ানো হয় এবং পূর্বের মতোই নৈবেদ্য প্রদান ও গো-দেবতার উপাসনা করা হয় । ফল খাওয়ানোর সময় স্তুতি করা হয়- লাউ খা, বাইগন খা বছরে বছরে বাড়িয়া যা বাপো বাড়ো মাও বাড়ো তুই হ মোটা তাজা ।। ২. পয়লা বৈশাখ মানষি বিষুয়া: এদিন সকালে স্নানসেরে সবাই নতুন জামা কাপড় পরিধান করে । গৃহদেবতার পুজো করা হয় । ছোটরা বড়দেরকে প্রনাম করে আশীর্বাদ নেয় এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয় । ভোজনের ক্ষেত্রে মাংস, পিঠা ইত্যাদি আয়োজন করা হয় । ৩. ২রা বৈশাখ গুষ্ঠি বিষুয়া জ্ঞাতি গোষ্ঠীর মানুষ জনকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো হয় । প্রনাম, শুভেচ্ছা বিনিময়, উপহার প্রদান, খাওয়া দাওয়া গল্প-গুজব ইত্যাদি হয় । ৪. ৩রা বৈশাখ সাতশাকি বিষুয়া এদিন মধ্যাহ্নভোজনের সময় সাতটি বিভিন্ন শাক সংগ্রহ করে ভাজা করে খাদ্যের একটি পদ হিসেবে গ্রহণ করা হয় । বেশিরভাগ সময় এগুলো ঔষধি গুণ সমৃদ্ধ হয়ে থাকে । ৫. ৪ঠা বৈশাখ বাহো বিষুয়া, ৬. ৫ই বৈশাখ শিকার বিষুয়া বাহো ও শিকার বিষুয়া উত্তরবঙ্গে যেমন ভাবে পালন করা হয় ঠিক তেমনি ভাবে পালন করা হয়, শুধুমাত্র পালনের তারিখটি ভিন্ন হয় । ৭. ৬ই বৈশাখ দেও বিষুয়া । পরিশেষে বিষুয়ার পরিসমাপ্তিতে সপ্তম তথা শেষ দিনে আবারও গৃহদেবতার পুজো করা হয়, নাম সংকীর্তন ইত্যাদি আয়োজন করা হয় এবং সবার মঙ্গল কামনা করে বিষুয়া উৎসবের উপসংহার টানা হয় । কিন্তু বিষুয়াকে কেন্দ্র করে সারা বৈশাখ মাস ধরে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । একথা অনস্বীকার্য যে, ভূমিপুত্র রাজবংশী বা কোচ-রাজবংশী জনগোষ্ঠীর এই নববর্ষ বরণের অনুষ্ঠান বিভিন্নভাবে মহান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের শিকর সন্ধানে তাদের উদ্বুদ্ধ করছে এবং নবপ্রজন্ম তাদের মতো করে উৎযাপন ও সংরক্ষণে ব্রতী হয়েছে ।
- হিমাদ্রি দেউরী


